![]() |
| ছবি: পিক্সেলস |
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ছয় বিভাগে আগামী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে আসা বাতাসের আর্দ্রতা ও বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমী লঘুচাপের প্রভাবে দেশের এসব অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে এ মুহূর্তে কোথাও কোনো ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়নি।
শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও তার আশপাশে অবস্থানরত লঘুচাপের বর্ধিতাংশের প্রভাবে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানো এবং বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে । দেশের অন্য এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এপ্রিলের শুরুতেই তাপপ্রবাহের শুরু হতে পারে, তবে আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর তাপমাত্রা কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দিনের তাপমাত্রা কমতে নাও পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বাড়তে পারে তাপমাত্রা, বাড়তি গরম অনুভূত হতে পারে
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে । বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় গরমের অনুভূতি বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ সময় বাতাসের গতিবেগ তুলনামূলক কম থাকায় অস্বস্তি বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বান্দরবানে - ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস । একই সময়ে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতও হয়েছে বান্দরবানে, যার পরিমাণ ২১ মিলিমিটার। তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিটে, আর আগামীকাল সূর্যোদয় সকাল ৫টা ৫৫ মিনিটে । রাজধানীতে আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। বাতাসের গতিবেগ থাকবে
ঘন্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার ।
কী বলছেন আবহাওয়াবিদরা?
আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে সাধারণত বাংলাদেশের ওপর দিয়ে পশ্চিমা লঘুচাপ অতিক্রম করে। চলতি মৌসুমেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে যে লঘুচাপের বর্ধিতাংশটি সক্রিয় রয়েছে, সেটি আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তবে এর প্রভাবে আপাতত কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা মৌসুমী লঘুচাপটি দুর্বল থাকলেও এর প্রান্তভাগের প্রভাব দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের কিছু জায়গায়ও হালকা বৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা।
জনজীবনে প্রভাব ও করণীয়
মার্চের শেষে বৃষ্টি কৃষকের জন্য আশীর্বাদ হলেও শহরাঞ্চলে কিছুটা অস্বস্তি ডেকে আনতে পারে। আকস্মিক বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে, বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের নিচু এলাকায়। আবহাওয়া অধিদপ্তর বজ্রপাতের ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।
বিদ্যুৎচমক ও বজ্রসহ বৃষ্টির কারণে খোলা মাঠ, নদীর ঘাট বা উঁচু স্থানে অবস্থান না করাই ভালো। গাছের নিচে কিংবা বিদ্যুতের খুঁটির কাছে আশ্রয় না নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। আগামী কয়েক দিনে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে, ফলে রাতের গরম অনুভূত হতে পারে।
অন্যান্য বিভাগের চিত্র
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, আজ দেশের বিভিন্ন বিভাগে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার তারতম্য দেখা যাচ্ছে। খুলনা বিভাগে তাপমাত্রা ২৩ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে, অন্যদিকে সিলেট বিভাগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯ ডিগ্রির আশপাশে থাকতে পারে । ময়মনসিংহে আকাশ মেঘলা থাকলেও দিনের তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।
বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় নিয়ে অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ। ফেরিঘাটগুলোতে যাত্রীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আগামী কয়েক দিনের আভাস
আগামী ২৪ ঘণ্টার পরবর্তী সময়ে লঘুচাপটির প্রভাব ক্রমান্বয়ে কমতে পারে। ফলে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আরও এক দিন বৃষ্টি থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে এবং কোথাও কোথাও তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
নতুন করে কোনো ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির সম্ভাবনা এখনই নেই বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় থাকা মৌসুমী লঘুচাপটি খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে যাবে। তবে এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে কালবৈশাখী ঝড়ের শুরু হতে পারে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।
